শীতের আগমনী বার্তায় চলনবিলে লেপ-তোষক তৈরির ধুম

0
152

নিজস্ব প্রতিনিধি:  শীতের আগমনের পদধ্বনিতে প্রকৃতি সেজে উঠেছে নতুন আমেজে। শীতের বুড়িটা কোনো কোনো এলাকায় জেঁকে বসার প্রস্তুতিও নিচ্ছে জোরেশোরে। মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। বাতাসে শুষ্কতার ছোয়া। দুয়ারে কড়া নাড়ছে শীত। কাক ডাকা ভোরে গাছপালা ও ঘাসের সবুজ গালিচায় মুক্তাবিন্দুর মতো শিশির পড়তে শুরু করেছে। হেমন্তের হিমেল হাওয়ায় জানান দিচ্ছে শীত আসছে। সাধারণ মানুষ শীত জেকে বসার আগেই লেপ-তোষক তৈরির প্রস্তুতি শুরু করায় চলনবিলের বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে পাড়া-মহল্লাই লেপ-তোষক তৈরির কারিগররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শীত মৌশুমের শুরুতেই দিনের বেলা কিছুটা গরম থাকলেও মধ্যরাতে ঠান্ডা বা শীত অনুভুত হয়। গত কয়েকদিন যাবত শীত পড়তে শুরু করছে। দিন দিন শীত বাড়তেই থাকবে। আর এ কারনে আগে থেকেই লেপ তোষকের দোকানগুলোতে নতুন অর্ডার বা পুরনোগুলো মেরামতের অর্ডার দিতে ভীড় করছেন ক্রেতারা।

সরেজমিনে চলনবিলের  বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কনকনে শীত জেকে বসার আগেই তা মোকাবেলা করার জন্য অধিকাংশ হাট বাজারের লেপ তোষকের কারিগর ও পাড়া-মহল্লার মানুষ বাড়িতে বাড়িতে লেপ-তোষক তৈরি করছে। দিন যতই গড়াচ্ছে শীত ততই বেশি পড়ার আশংকায় বিভিন্ন গ্রামের মানুষেরা নতুন নতুন লেপ তৈরি করছে।
লেপ তৈরির কারিগররা শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে অর্ডার নিলেও যথা সময়ে সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। লেপ-তোষক অর্ডার দিতে আশা মানুষের তারাহুরার কারণে  বাজারের শোরুমের ফাঁকা জায়গায় ক্রেতাদের উপস্থিত আর কারিগরদের ধুনুক দিয়ে তুলা ফাটানোর সরগরমেই যেন বলে দিচ্ছে লেপ-তোষক তৈরির ধুম পড়েছে।

চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার পৌর শহর, নওগাঁ বাজার, খালখুলা বাজার, গুল্টা বাজার ও রানীরহাট বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে লেপ-তোষক তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক গুণ।

তাড়াশ উপজেলা পৌর সদরে দেখা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত  তাড়াশে ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশা পড়তে শুরু করছে সর্বত্র। দিনে সূর্যের আলো থাকলেও সন্ধ্যার পর ঘন কুয়াশার চাদরে চার দিকে ঢেকে যাচ্ছে।

পৌরসভা এলাকার লেপ-তোষক ব্যবসায়ী আবুল বাশার জানান, এরই মধ্যে ক্রেতারা নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের জন্য লেপ-তোষক, বালিশসহ শীতবস্ত্র বানাতে দিচ্ছেন ও অনেকেই আবার বানিয়ে নিয়েছেন। তবে লেপ-তোষক তৈরির কাঁচামাল তুলা ও কাপড়ের দাম একটু চড়া।

বাজারে প্রতি কেজি গার্মেন্টস তুলা (সাদা) ৬০ থেকে ১২০ টাকা, গার্মেন্টস তুলা (কালো) ৩০ থেকে ৬০ টাকা, শিমুল তুলা ৬শ টাকা থেকে ৬শ ৫০ টাকা, কার্পাস তুলা ২শ টাকা থেকে ২শ ৫০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের নওগাঁ বাজারের ব্যবসায়ী প্রদীপ কর্মকার জানান, এ বছর লেপ-তোষক তৈরিতে গত বছরের চেয়ে তিনশত থেকে চারশত টাকা বেশী লাগতেছে। তাছাড়া একটি তোষক ১২শত’ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে ও উন্নতমানের একটি জাজিম তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে