সরকার ৮০ ভাগ মানুষকে করোনা টিকার আওতায় আনার কথা ভাবছেঃ পলক

0
38

নাটোর প্রতিনিধিঃ ‘মাস্ক আমার-সুরক্ষা সবার’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, করোনায় দেশের মানুষ এখন ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনার কথা ভাবছে সরকার। বিভিন্ন দেশ থেকে করোনার ভ্যাকসিন আসা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ কোটি মানুষের করোনা ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধন হয়েছে। তবে টিকা গ্রহণের পাশাপাশি মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করছেন। তাঁর নির্দেশনায় দেশের সকল মানুষকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষদের নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে।করোনা মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি জনসাধারণকেও একযোগে কাজ করতে হবে।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় করোনাভাইরাস জনিত রোগ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও সংশ্লিষ্ট ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের জুম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী, হাট ইজারাদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৮০০ জন মানুষ এই জুম সভায় অংশগ্রহণ করেন।

জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জুম সভায় প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, করোনা প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে “মাস্ক আমার-সুরক্ষা সবার” এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারের নির্দেশগুলো গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে।সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে মানুষকে সচেতনতায় প্রয়োজনে মাইকিং করে প্রচার করতে হবে।তিনি বলেন, ঘরে খাবার পেলে লকডাউন মানতে বাধ্য থাকবে সবাই। তাই কর্মহীন ও দরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন ‘৩৩৩’ নম্বরে সেবা পাওয়ার জন্য। দরিদ্র, কর্মহীন বা মধ্যবিত্তরা ‘৩৩৩’নম্বরে সহায়তা চাইলে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ত্রাণের বিষয়ে প্রচার করতে হবে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষ যাতে সঠিকভাবে খাদ্য সহায়তা পায়, সেজন্য প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মৃত্যু ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে মাস্ক পরিধান করা অপরিহার্য। আইসিটি ডিভিশনসহ বিভিন্ন সংস্থা সাড়ে ৩ লাখ মানুষের মধ্যে ১০ সপ্তাহ ধরে জরিপ কার্যক্রম চালিয়ে এই সমীক্ষা পাওয়া গেছে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে তুলে ধরার জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি,সাংবাদিক শিক্ষকসহ সকল পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।মসজিদ, পাড়া-মহল্লায় প্রচার চালাতে হবে।প্রেস ক্লাব ও সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের মধ্য দিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে হবে।তাতে যদি মানুষ সজাগ না হয়, সে ক্ষেত্রে প্রশাসনকে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ঈদের আগে কোরবানির পশুর সকল হাটে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা, স্যানিটাইজার ব্যবস্থা ও করোনার টেস্ট করা হবে। নাটোরের ২০ লাখ মানুষকে মাস্ক পরার অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে জেলাকে সুরক্ষা করা সম্ভব হবে।তিনি বলেন, সিংড়া এলাকায় ২ লাখ মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। ঈদের আগে আরো ২ লাখ মাস্ক বিতরণ করা হবে।ইতোমধ্যে ৪০টি বুথ তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা ম্যানেজমেন্টের অংশই হলো মাস্ক পরা। আমাদের সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। আমরা লজ্জা নিবারণের জন্য যেমন পোশাক পরি তেমনি করোনা থেকে জীবন বাঁচানোর জন্য মাস্ক পরতে হবে।

তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাস্ক ছাড়া কেউ যাতে সেবা প্রদান ও গ্রহণ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি স্বেচ্ছাসেবকসহ সকলকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদেরও মাস্ক বিতরণে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনার ভয়াবহতা রোধ করা সম্ভব হবে।

জুম সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা)  আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য রত্না আহমেদ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডাক্তার সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, বনপাড়া পৌরসভার মেয়র কে এম জাকির হোসেন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ডা. গোলাম মোস্তফাসহ চিকিৎসক, সাংবাদিক, হার্ট ইজারাদার এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে