সারের কৃত্রিম সঙ্কট বড়াইগ্রামে

0
120

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে প্রতি বস্তা সারে কমপক্ষে তিনশ টাকা করে বেশি নিচ্ছেন ডিলাররা। সার নিয়ে ডিলারদের এমন কারসাজিতে চাষাবাদ ব্যাহত হলেও কৃষি বিভাগের যথাযথ তদারকি নেই বলে অভিযোগ কৃষকদের।

এদিকে, রসিদের মাধ্যমে সার বিক্রির নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না ডিলাররা। তবে প্রয়োজনের তুলনায় সারের সরকারী বরাদ্দ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়ে গেছে বলে ডিলারদের দাবি।

রসুন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত উপজেলা হিসেবে পরিচিত বড়াইগ্রাম। এখান থেকে ঢাকাসহ সারা দেশে রসুন রপ্তানি করা হয়। রসুন উৎপাদনে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সারই এখানে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। অদৃশ্য কারণে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে টিএসপি সার। ডিলারদের কাছে সরকারি দরে সার কিনতে গেলে বলা হয় টিএসপি সার নেই। তবে বেশি দাম দিলে ঠিকই সার মেলে।

জানা যায়, ৫০ কেজির এক বস্তা ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সারের খুচরা মূল্য ১১০০ টাকা, কিন্তু বর্তমানে ১৪০০-১৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিএপি সার চাষী পর্যায়ে ৮শ টাকা মূল্য হলেও বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১১০০ টাকায়। নাইট্রোজেন জাতীয় সার (ইউরিয়া) ৭০০ টাকার স্থলে ৮০০ টাকা এবং মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ৬৫০ টাকার স্থলে চাষী পর্যায়ে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বড়াইগ্রাম সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের চাষি খাদেমুল ইসলাম বলেন, ৩০০-৩৫০ টাকা বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের রসুন চাষে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। মামুদপুর গ্রামের কৃষক আবু রায়হান বলেন, মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় ডিলাররা নিজেদের সুবিধার্থে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছে। রসুন চাষের মৌসুমে এ অবস্থা হওয়ায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা সার বিক্রেতা বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে ১৪০০ টাকায় কিনে বাইরে ১০-২০ টাকা লাভে সার বিক্রি করছি। গোপালপুর ইউনিয়নের বিএডিসি সার ডিলার আবুল হোসেন তালুকদার জানান, এ মাসে আমার এলাকায় ৩০ টন টিএসপি সারের চাহিদার বিপরীতে পেয়েছি মাত্র সাড়ে ৯ টন, যা কয়েকদিনেই শেষ হয়ে গেছে। তবে খুচরা ডিলাররা যশোরসহ বাইরের জেলা থেকে সার এনে অধিক দামে বিক্রি করছে। সরকারি ভাবে দাম না বাড়লেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অর্ধেকেরও কম থাকায় সারের দাম বেড়ে গেছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন পারভীন বলেন, আমরা ডিলারদের নিয়ে সভা করে তাদেরকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির নির্দেশ দিয়েছি। আমরা খোঁজ রাখছি। কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে