সিন্ডিকেটের কবলে ১৫০০ কোটি টাকা: পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি

0
107

ঢাকাঃ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতিদিনই বাড়ানো হচ্ছে এর দাম। দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের আমদানি মূল্য ছিল ৩০ থেকে ৩৩ টাকা।

ভারত পেঁয়াজের রফতানি মূল্য বাড়ানোর ফলে এর দাম আরও বেড়ে ৭০ টাকায় ওঠে। তবে অন্য দেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি কেজির খরচ পড়েছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা। ওইসব পেঁয়াজ এই দুই মাসে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা দরে। এভাবে বাড়তি মুনাফা করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা গত দুই মাসে কমপক্ষে দেড় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ভোক্তার পকেট থেকে।

এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আমদানিকারক, খুচরা ব্যবসায়ী ও কতিপয় প্রভাবশালী জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি তোলা হলেও অদ্যাবধি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অতীতেও এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা সব সময়ই থেকেছেন অধরা। এ অবস্থায় শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে শনিবার দেশের বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও এক দফা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। যা শুক্রবার ছিল ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। একইদিন পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম ছিল গড়ে ২৫২ টাকা। আগের দিন ছিল ২৪০ টাকা। তবে রাজধানীর বাইরে কোথাও কোথাও খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা দরেও বিক্রি হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী আশঙ্কা করেছেন, এর দাম আরও বাড়বে।

কেননা পাইকারি বাজারে চাহিদা অনুযায়ী পেঁয়াজ মিলছে না। ফলে খুচরা বাজারে দাম বেড়েই চলেছে। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রশাসন থেকে পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দোকানে পেঁয়াজের মূল্য না টানানো এবং টানানো মূল্যের চেয়ে বেশি দাম রাখায় জরিমানা করা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয়। চুয়াডাঙ্গায় অভিযানের সময় পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে অবরুদ্ধ করে ব্যবসায়ীরা। মারধর করে সাংবাদিকদের। কুষ্টিয়ায় অভিযান চালানোর সময় পেঁয়াজের দাম এক লাফে কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কমে যায়। এছাড়া টিসিবির ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রয় কেন্দ্রে ক্রেতারা দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে পণ্যটি ক্রয় করেছেন অনেকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা থাকে ২৪ লাখ টন। সে হিসেবে এক মাসের চাহিদা ২ লাখ টন। একদিনে চাহিদা ৬ হাজার ৬৬৬ টন। এ হিসাবে একদিনে ৩০ টাকা বাড়ানো হলে ১১ দিনে ভোক্তার পকেট থেকে কাটা হয়েছে ২১৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

এদিকে যেদিন থেকে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে সেদিন থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্য সচিব একাধিকবার বলে আসছেন, দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। যে বা যারা বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা কাউকেই ছাড় দেব না। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান শুরু হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি সেল, ভোক্তা অধিকার অধিদফতর ও বিভিন্ন সংস্থা বাজার তদারকি শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতায় চলে আসবে। কিন্তু এর পরও বাজার নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং এর দাম আরও বেড়েছে। ভোক্তাকে এখন এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ২৫০-২৮০ টাকায়।

শনিবার কারওয়ান বাজারে মনিটরিংকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাজমুল হক গণমাধ্যমে বলেন, দোষীদের ধরতে ও পেঁয়াজের দর নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা প্রতিদিন বাজার তদারকি করছি। কেউ কারসাজি করছে কিনা সেটা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। দোষীদের পেলে শাস্তির আওতায় আনছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে