সেফা’র (CEFA) উদ্যোগে আব্দুস সালাম স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

0
64

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বেচ্ছাসেবী ও কল্যাণধর্মী সংগঠন সেফা’র (Collective Efforts For Advancement-CEFA) উদ্যোগে খুবজিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক এবং সেফার সদস্য শিবলী নোমানী সোহেলের পিতা আব্দুস সালাম স্মরণে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মরহুমের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন তার বড় ছেলে, সেভেন রিংস সিমেন্টের জিএম শিবলী নোমানী সোহেল, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম শিশির, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর মেডিসিন এর মহাসচিব এবং মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ও  মরহুমের বেয়াই আ. আজিজ, মরহুমের সহকর্মী  ও গোপালপুর কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মনসুর রহমান,বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল এবং মরহুমের কনিষ্ঠ ছেলে সাইদ আল মামুন।

প্রয়াত শিক্ষক আব্দুস সালাম স্যারের স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ, কর্মঠ, নিষ্ঠাবান এবং আদর্শ ব্যক্তি। তিনি ছিলেন একজন  অতিথিপরায়ণ ব্যক্তি। কেউ তার বাড়িতে গেলে তিনি নিজ হাতে আতিথেয়তা করতেন।  তিনি যখন যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন  সেখানেই তিনি আন্তরিকতা  ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। সকলকে সহজে আপন করে নিতে পারতেন। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবী ও প্রকৃতিপ্রেমী। শহরের চেয়ে গ্রামীণ জীবনকে  তিনি অনেক বেশি পছন্দ করতেন।  গাছপালা ,পশুপাখির প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এজন্য তিনি বাড়ীতে শখ করে বাগান , গাছ পালা রোপণ এবং পশুপাখী লালন পালন করতেন। সব মিলিয়ে তার জীবন ছিল আর দশজনের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। তার চলে যাওয়াতে যে  শুণ্যতার সৃষ্টি হলো তা  কোন ভাবে পূরণ হবে না।  খুবজীপুর তথা চলনবিল এলাকার মানুষ তাকে আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

আব্দুস সালাম চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র খুবজীপুর গ্রামে  ১৯৪৭ সালের ১১ জানুয়ারী   জন্ম গ্রহণ করেন । পিতার নাম ছিল মৃত পকু প্রামানিক এবং মাতা মৃত পঞ্চ বেগম। তিনি  গুরুদাসপুর হাইস্কুল থেকে  এসএসসি, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর কলেজ থেকে এইচএসসি  এবং নাটোর এনএস কলেজে থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে  তিনি খুবজিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের  শিক্ষক হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। এরপর তিনি   বিজেএমসির আওতাধীন ভৈরবের জব্বার জুট মিলে ১৯৬৮ সালের দিকে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর জুট মিল বন্ধ হয়ে গেলে   তিনি ১৯৭৪ সালে   নাটোরের গোপালপুর কলেজে  একাউন্ট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তার কাজের পাশাপাশি  ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাশও  নিতেন। কয়েক বছর এখানে কাজ করার পর তিনি আবার ফিরে যান তার পুরাতন কর্মস্থল ভৈরবের জব্বার জুট মিলে । ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি এই জুট মিলে কর্মরত ছিলেন।

অবসর গ্রহণের পরও তিনি বসে থাকতে চাইতেন না। তিনি সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে চাইতেন। এজন্য অবসর জীবনেও তিনি ছোট খাট  ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িত ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি বেশ কিছুদিন গোপালপুরের বাড়িতে অবস্থান করতেন। এরপর তিনি ফিরে আসেন তার জন্মস্থান খুবজিপুর গ্রামে। আমৃত্যু তিনি তার গ্রামের বাড়ীতেই অবস্থান করেছেন।

বার্ধক্য জনিত কারণে তিনি গত মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক চিকিত্সায় উন্নতি না হওয়ায়  তাঁকে ঢাকার  হার্ট ফাইন্ডেশনে ভর্তি করা হয়। এরপর তাকে সেখান থেকে আয়েশা মেমোরিয়াল   ( ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল)  হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।  তার শারীরিক অবস্থার আরো  অবনতি হলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় । সেখানে কয়েকদিন জীবন যুদ্ধের সাথে সংগ্রাম করে  গত ২৭ জুলাই মঙ্গলবার  তিনি  মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। এর মধ্য দিয়ে চলনবিলের একজন আদর্শ মানুষের  কর্মবহুল জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার  জানাজা শেষে খুবজীপুর গোরস্থানে  তাকে দাফন করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম শিশির। ভার্চুয়াল  এই আলোচনা সভায় আরো যুক্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, এডি সফটের পরিচালক আব্দুল মান্নান,জনতা ব্যাংকের সাবেক জিএম সাজেদুর রহমান, রহিম আফরোজ স্টোরেজ পাওয়ার বিজনেসের সিনিয়র টেকনিক্যাল এডভাইজার প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল করিম,কানাডা প্রবাসী  ড. মোঃ ইমরান হোসেন,খুবজিপুর এম হক কলেজের সহকারি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা,  লেঃকর্নেল আসিফ মো. সালেহ, ডা. লিজা , ডিপিএমজি আব্দুল হান্নান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক গোলাম মোস্তফা,খুবজিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান,উপ-কর কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, মিরপুর সাইন্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন রিপন, পুবালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, খুবজিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, গ্রামীণ ফোনের টেরিটোরি অফিসার সায়েকুল ইসলাম সেন্টু, চলনবিল প্রবাহ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুল হক খোকন, ইষ্ট ওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিষ্ট্রার  ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মহিউদ্দিন , বারডেমের ডা. ফেরদৌস আলম প্রমুখ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে