হারিয়ে যাচ্ছে চলনবিলের হাতে ভাজা মুড়ি

0
102

শাহীনুর রহমান (ছাইকোলা) চাটমোহরঃ  আধুনিক যান্ত্রিক ব্যবস্থায় মানুষের জীবন মানের অগ্রগতির পথে আজ প্রাচীন ঐতিহ্যের অনেক কিছু বিলুপ্ত প্রায়। এই হারানো ঐতিহ্যেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল হাতে ভাজা দেশি মুড়ি। কালের পরিক্রমায় আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় এখন কারখানায় মুড়ি উৎপাদিত হওয়ার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সু-স্বাদু হাতে ভাজা দেশি মুড়ি।

চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায়  এক সময় হাতে ভাজা মুড়ি ব্যাপক ভাবে  তৈরি হতো। এ  কাজে নিয়োজিত থাকতেন  অনেক  নারী ও পুরুষ। তবে কারখানায় উৎপাদিত এলসি মুড়ি সহজলভ্য ও বেশি বাজার জাত করণের ফলে এখন দেশি হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা অনেক কমে গেছে।  এ কারণে অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে অন্য  পেশায় চলে যাচ্ছে।

চলনবিলের কাছিকাটা, চর মধুপুর, দড়ি বামনগাড়া প্রভৃতি গ্রামে এখনো অনেক মানুষ এই পেশার সাথে যুক্ত আছেন। তারা তাদের উৎপাদিত মুড়ি মির্জাপুর, চাঁচকৈড়সহ বিভিন্ন হাটে খুচরা ও পাইকারি ভাবে বিক্রি করে। এছাড়া নাটোরের গোয়ালদীঘি কৃষ্ণপুর গ্রামে বাণিজ্যিক ভাবে মুড়ি উৎপাদন করা হয়। এখানে এ পেশায় জড়িত আছে প্রায় তিনশো পরিবার। প্রতিদিন নাটোর গোয়ালদীঘি ঢালসড়ক মুড়ির হাট থেকে ৫০ মণ থেকে ৬০ মণ মুড়ি ঢাকা, রাজশাহী, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। রোজার সময় প্রতিদিন ১৫০ মণ থেকে ২০০ মণ মুড়ি বিক্রি হয়।

মুড়ি তৈরীর জন্য প্রথমে ধান সংগ্রহ করে  আধাসিদ্ধ তারপর পুরোপুরি সিদ্ধ করে রোদে শুকিয়ে তা দিয়ে মুড়ির চাল তৈরী করা হয়।এরপর সেই চাল থেকে তৈরী হয় হাতে ভাজা দেশি মুড়ি। কোনোপ্রকার রাসায়নিক ছাড়া কেবল লবণ আর পানি দিয়ে মুড়ি তৈরি করায় এ মুড়ির চাহিদা যেমন বেশি, তেমনি খেতেও সুস্বাদু। তবে দেখতে কিছুটা লালচে।

কারিগররা জানালেন, মুড়ি তৈরি করতে খুব পরিশ্রম হলেও তা সর্বদায় লাভজনক। তবে তাদের আসল সমস্যা পুঁজি সংকট। বিভিন্ন এনজিও আর স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তাদের লাভের গুড় পিঁপড়েতে খায়। স্বল্প সুদে সরকারী ঋণ সহায়তা পেলে এই শিল্পের আরও বিকাশ ঘটতে বলে মনে করেন কারিগর আর স্থানীয়রা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে